দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নির্বাচনী বিলবোর্ড লাগানোকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে চাইলে ক্ষুব্ধ হন বিএনপি নেতা সাগর। একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকেলে উপজেলার নোয়াদ্দা বাংলা বাজার এলাকায় বিলবোর্ড বসাতে যান ঘড়িষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর। এ সময় জমির মালিক ও জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেব বিলবোর্ড বসাতে বাধা দিলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান অর্ণবের চাচা আব্দুস সালাম। অভিযোগ, সেখানে তাকে মারধর করে ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দিয়ে থানায় নিয়ে যান মতিউর রহমান সাগর ও তার লোকজন।
এ সময় সাগর তার নির্বাচনী ব্যানার ছিঁড়ে ও পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ এনে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। ওসি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে সাগর তার করা আগের একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
পুলিশ আব্দুস সালামকে ছেড়ে দিলে ওসি আনোয়ার হোসেনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সাগরের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি বলেন, বাহার (আগের ওসি) গেছে যে পথে, আপনিও যাবেন সে পথে।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা এসব ঘটনায় পৃথকভাবে থানায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের চাচা আব্দুল সালাম বলেন, আমার বড় ভাইয়ের জায়গায় সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে মতিউর রহমান সাগরের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আমার ভাইকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরে সেখান থেকে চলে আসি। এর কিছুক্ষণ পর আমার বাড়ির সামনে ৮ থেকে ১০ জন লোক আমার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। এ সময় আমাকে যুবলীগের ট্যাগ দিয়ে থানায় নিয়ে আটকের চেষ্টা করা হয়। মতিউর রহমান সাগরের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ঘড়িষার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন, আমার ভাগিনা একজন জুলাই শহীদ। জুলাই আন্দোলনে তিনি শহীদ হয়েছেন। সেই শহীদকে মতিউর রহমান সাগর ছাত্রলীগের ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু মতিউর রহমান সাগরের এমন কর্মকাণ্ডে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তাই বাংলাবাজার এলাকা থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ ভাইয়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা তার এমন কর্মকাণ্ড থেকে পরিত্রাণ চাই। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর বলেন, আমার সঙ্গে এ ধরনের কোনো কথা হয়নি। পেলে দেখেন। এ কথা বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, আমাদের কাছে যে অভিযোগটি এসেছিল, সেটা যাচাই করেছি। সেটি সাধারণ হাতাহাতির ঘটনা। হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল আব্দুস সালামের ভাইয়ের সঙ্গে। তাই আব্দুস সালামকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি।
থানার ওসিকে হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা কাজ করি রাষ্ট্রের জন্য। আমাদের ভুল হলে রাষ্ট্র দেখবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে গিয়ে যদি কারও দ্বারা হয়রানির শিকার হই, সেটাও রাষ্ট্র দেখবে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা যেভাবে নির্দেশ দেবে, সেভাবেই কাজ করব।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, এর আগেও কয়েকবার প্রশাসনের সঙ্গে মতিউর রহমান সাগরের বাকবিতণ্ডা হয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পুলিশ সুপারকে নিয়েও তিনি আপত্তিকর কথা বলেছিলেন বলে জানান তিনি।
শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আমরা তখন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তখন সে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল এবং আমাকে বিষয়টি দেখতে বলেছিল। আমি দলের কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছি। আসলে আমরা চাইলেই যেকোনো সময় একজন কর্মীকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা রাখি না। আমরা তদন্ত করে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে পাঠাব।
তিনি আরও বলেন, আগের প্রতিবেদনও আমরা পাঠিয়েছি। ব্যস্ততার কারণে অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলেছেন, এটা মোটেও কাম্য নয়। আমরা যারা সমাজে বাস করি এবং রাজনীতি করি, আমাদের এভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করার ক্ষমতা নেই। আমি বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আগামী দুই দিনের মধ্যে আলোচনা করব।
যে আই